||ডাক্তার,  সমাজ আর মনগড়া কিছু গল্প – তৃতীয় অংশ||

দোষ দুতরফেই আছে | বাস্তবিক ভাবেই অনেক ক্ষেত্রে  ডাক্তারদের ব্যবহার অতন্ত্য মরমান্তিক | সবক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত না হলেও, এই ব্যবহার কখনওই  কাম্য না;সে যতই কাজের চাপ থাকুক না কেন | মানুষ মানুষ  আত্মিক যোগাযোগ ছাড়ুন, ব্যাড বিহেভিয়ার ইজ ব্যাড ফর বিজনেস | 

বিজনেস বলতে মনে পড়লো,  কসাই ছাড়াও যে প্রেফিক্সটা আজকাল ডাক্তারদের নামের সাথে খুব চলছে সেটা হলো এই ব্যবসায়ী তকমাটা |ডাক্তার টেস্ট ল্যাবের থেকে টাকা নিয়ে জামাকাপড় কেনে,ওষুধ দোকানের টাকায় বাড়িগাড়ি কেনে এমন দাবি লিফলেটে বিক্রি হয়, দাবির নৈতিকতা অবশ্য-ই বিচারয্য, কিন্তু অবিশ্বাসের ঘেরাটোপে চিকিৎসার মূল লক্ষ্যই গৌণ হয়ে যাচ্ছে|

ডাক্তার একটা জরুরী টেস্ট দেওয়ার আগে দশবার ভাবছে,  রোগী ওষুধ খাওয়ার আগে চারটে জায়গায় কন্সাল্ট করছে, মাঝখান থেকে বিনাইন টিউমার ম্যালিগন্যান্ট হয়ে যাচ্ছে |

আর এই জায়গায় যাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার কথা সেই মিডিয়া পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়িতে ব্যস্ত|

আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি খুব কম ডাক্তারকেই দেখবেন মিডিয়া নিয়ে ভালো কথা বলতে | আবার উলটোটাও সত্য, ডাক্তার দের ভুলটা যতোটা হাইলাইটেড হয়, সাফল্যগুলো নিয়ে লেখালেখি ততোটা হয়না – একথা খুব-ই সত্যি,  আপনি মানুন বা না মানুন | 

আবার-ও বলবো দোষ কারোর একার নয়, সেই খবর -ই বেশি করে পরিবেশিত হয় যা পাব্লিক ডিমান্ড করে, কারন টা আগেই বলেছি কাস্টমার চটিয়ে বিজনেস হয় না | আর সমাজ চায় রোজ নতুন নতুন কেচ্ছা স্ক্যাম আর গল্পের কেন্দ্রে তাদেরকেই রাখতে চায় যারা কিছুটা হলেও আউট অফ দ্য লিগ, সে যে মাপকাঠিতেই হোক| আর আমরা সেই পাব্লিক ডিমান্ড – এর শিকার হয়ে পড়েছি নিজেদের তৈরি করা সোসাল স্ট্যাটাসের গ্যাঁড়াকলে |

স্পষ্টত-ই একটা গ্যাপ – ডিসবিলিফ থেকে তৈরি হওয়া ডিসরেস্পেক্ট একটা দূষিত পরিবেশ তৈরি করছে| তার উপর যোগ হচ্ছে প্রাইভেট হাসপাতালের জোরজুলুমের গল্প,  ভুয়ো ডাক্তারের জাল সার্টিফিকেটের এপিসোড | এই সবের মাঝে ভিলেন হয়ে রয়ে যাচ্ছে সেই ডাক্তাররাই | 

আমরা কেনো ভুলে যাচ্ছি ‘ডাক্তার’ কোনো ভিনগ্রহের জীব না, আপনার পাশের বাড়ির মেয়েটা বা আপনার নিজের ছেলেটাও এই দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া প্রফেশনটার সাথে যুক্ত কেউ হতেই পারে| আর এই বিশ্বাস টা ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে দরকারি ভূমিকা নিতে হবে কিন্তু মিডিয়াকেই | 

ব্রেইনওয়াশ করার কথা বলছি না, বলছি একটা সুস্থ পরিবেশ তৈরির কথা যেখানে আর কিছু না হোক দুপক্ষ র মধ্যে বিশ্বাসটা বজায় থাকবে, আর তাতে আখেরে লাভ সবার -ই | না হলে কে বলতে পারে অদূর ভবিষ্যৎ -এ এই জীবিকাটাই অবলুপ্ত হয়ে গেলো আর কোনো এক মুমূর্ষু রোগীর ডাক্তার দ্বারা সুস্থ হওয়ার গল্প নিছক মন গড়া ছেলেভোলানো গল্প হয়েই থেকে গেলো |

Advertisements

ডাক্তার, সমাজ আর মনগড়া কিছু গল্প।                                      দ্বিতীয় অংশ 

একসময়ের নোবেল প্রফেশন আজ বিপন্ন |কোথাও গিয়ে মনে হয় এই হিংসা র পিছনে ঈর্ষা লুকিয়ে আছে |

ঈর্ষা খুব  স্বাভাবিক জৈবিক ধর্ম |কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে  এর প্রকাশটা অস্বাভাবিক হয়ে যায় |হিংসে আমরা তাদেরকেই করি , যাদের মান নাম যশ ঐশ্বর্য আমাদের চোখ টাটায়, যেমন ইন্ডিয়া ক্রিকেট টিমের ওই এগারোটা প্লেয়ার |স্বীকার  করুন বা না করুন , আপনি বা আপনার ছেলে ওই নীল জার্সি পরে ছক্কা হাঁকাবেন  , মনে মনে সেই স্বপ্ন দেখেন বৈকি  |আর পূর্ণ না হওয়া স্বপ্নের বৃথা আস্ফালনটা  চায়ের টেবিলে দেখান কোহলি যুবরাজদের শিরোচ্ছেদ করে |ভুলে যান যে, ওই এগারোজন  নিজের নিজের কৃতিত্বে আজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে | হ্যাঁ আপনি সমালোচনা করতে পারেন  , পুতুল পোড়াতে পারেন ,একশোবার  পারেন |যেটা পারেননা  সেটা হলো তার বাড়ি ভাঙচুর  করতে |নেহাত প্লেয়ারটাকে হাতের কাছে পাননি ,না হলে তার হালটাও  কোনোএক 

হতভাগ্য ডাক্তারের মতোই হতো  |কি করে ভুলে যান মানুষ মাত্রেই  ভুল হতে  পারে |কোনো নেতা  প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা পূরণ না করলে তাকে থাপ্পড় মারেন  ? আপনার ছেলে পরীক্ষায় ফেল করলে টিচারকে  গালিগালাজ করেন ? পুলিশ চোর না ধরলে , শালা  চোরের কাছে কমিশন খায় এই অপবাদে চড়াও হয়েছেন  ? না আপনার কেস  জিততে না পারা উকিলকে  খিস্তি মেরেছেন ? 

তবে ডাক্তারের জন্য পিঠের ছাল ছাড়িয়ে নেওয়ার আলাদা ব্যবস্থা কেন? 

প্রশ্নটা কমন পড়ে গেছে না !  উত্তরটা তো আপনার মুখস্থ |আপনার ট্যাক্সের টাকায় কলেজে পড়ে আমরা ডাক্তার হয়েছি , সমাজ ইনভেস্ট করছে তো সমাজের প্রতি দায়িত্ব আছে বৈকি !  

হক কথা |সমাজকে  সার্ভিস  দিতে  আমাদের   আপত্তি  থাকার  জায়গা নেই |কিন্তু  প্রশ্নটা হলো  বাকিদের  দায়িত্ব  নেই ?

স্কুলশিক্ষা তো অবৈতনিক, তবে প্রত্যেক টা শিক্ষিত  লোকের  উচিত সেই  সামাজিক  দায়িত্ব নেওয়া |আসুন  তবে নতুন  নিয়ম শুরু করি | পেশেন্ট দেখার  জন্য ডাক্তার টাকা  নেবে না , কেস লড়ার  জন্য উকিল টাকা  নেবেনা, টিচাররা  বিনিপয়সায় ছাত্র  পড়াবে, আর  ইঞ্জিনিয়াররা কোটি টাকার  বিদেশী অফার  ছেড়ে দেশে  থেকে সমাজসেবা  করবে  |শুধু তাই না ,  সমাজের ডিমান্ড  ফুলফিল না  হলে তাকে  বাকিরা মিলে  পিটিয়ে সিধে  করে দেবে |তবে না একটা গণতান্ত্রিক সামঞ্জস্য আসবে  |

​||ডাক্তার,  সমাজ আর মনগড়া কিছু গল্প|| ||প্রথম অংশ||

ডাক্তার, নেগলিজেন্স আর মারধর – দ্য রিসেন্ট ট্রেন্ড আর ফ্যাশন | 
এর জন্য কতটা দায়ী একজন ডাক্তার আর কতটা সমাজ ?

আর কতটা দায়ী মিডিয়া ?

নাকি সবাই দায়ী ?
ফার্স্ট ইয়ার এ প্রথম দিন শুনেছিলাম , আমরা নাকি ক্রিম অফ দ্য সোসাইটি , আমরা বাকি এভারেজ স্টুডেন্টদের থেকে উচ্চমেধার | হয়তো বা তাই | একটু খোঁজ নিয়ে দেখবেন উচ্চমেধাটা কিন্তু উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া না | জয়েন্ট দেওয়ার আগের বছরগুলো যখন আমরা দরজা বন্ধ করে ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি নিয়েছি , তখন পাড়ার যে ছেলেটা রকে আড্ডা মেরে পাড়ার দাদা হওয়ার দিকে এক কদম এগিয়ে গেছে তার কি সত্যি অধিকার আছে আমার কলার ধরার ? নেই মনে হয় | কারণ ওই যে আমি ক্রীম আর ও সমাজের জঞ্জাল | 
আমার কাছে বেশ আত্মমর্যাদার ব্যাপার মানছি , কিন্তু এই মানসিকতার একটা খারাপ দিক ও আছে | 
এইভাবে আমরা নিজেদেরকে সমাজ থেকে একটু একটু করে আলাদা করে ফেলেছি  | তখন মাটিতে পা রেখে চলতে অসুবিধে হয় | 
ভাবুন শাহরুখ খান একটা মার্সিডিজ কিনলেন,লোকে বলবে কত স্ট্রাগল করে উঠে এসেছে লোকটা |সত্যি কথা নিঃসন্দেহে  |কিন্তু একটা কম বয়সী ডাক্তার একটা দামি গাড়ি কিনলে তাকে টাকালোভী ঘুষখোর কমিশনভোগী এইসব শুনতে হয় | 
আসলে এটাই হলো কমুনিকেশন গ্যাপটার ফল ,যেটা আমরা তৈরী করেছি |
এই দূরত্বটা আমাদের কমাতে হবে |আমাকে পাশের বাড়ির কাকুকে বোঝাতে হবে যে ডাক্তার মাত্রেই বায়োলজি পড়া ব্যবসায়ী নয়,প্যাথলজি ল্যাবের জামাই না | সেখানে আমাদের উচ্চমেধার ট্যাগ টা ছেঁটে ফেলতে হবে |
 কিন্তু এটা একদিককার সল্যুশন |পাবলিক কেও বুঝতে হবে , একটা ছেলে বা মেয়ে ডাক্তার হওয়ার জন্য সমাজ থেকে  ঠিক ততটাই সুযোগ সুবিধে পায় যতটা আর বাকি পাঁচটা সাধারণ ছেলেমেয়ে পায় | এফোর্ট আর স্ট্রাগল তাকে অসাধারণ বানায় , তাকে ডাক্তার বানায় |

The bluish tinge

The blue whale saga is here in India

Blue, third colour of the VIBGYOR, is the colour of versiality.

Blue is the colour of depth, colour of width, colour of wisdom- the colour of sky and ocean.

Blue signifies universal truth as in Ashoka chakra of our national flag.

Blue is royalty, blue is the colour of poet’s love in the eyes of beholder.

Blue is the saint’s colour depicting stability and calmness.

Warriors wear blue as it reflects musculine aura.

Blue is the colour of the Shiva- the immortal warrior, the Neelkanth (God with blue throat).

Blue is the colour of poison.

Blue is colour of paleness, the fear, the worry.

Blue represents cyanosis, the sign of disease.

Blue is the extreme pain.

Blue is the colour of insanity, the colour of pornography.

Blue is the colour of death;- The Whale is blue- “The blue whale” is a curse. A curse to the children who are deprived of a father’s love, a mother’s attention, a sister’s affection, a brother’s guidance, a friend’s warmth , which is constantly dragging them into the depth of loneliness, to a virtual world of cyber crime and resulting in the most unfortunate fate they can ever face.

Blue is the colour of their deprivation, blue is the colour of their ill-fates.

Blue is the new black of our society.

#stop_blue_whale_saga.

Picture courtesy- Google